আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থলপথের আক্রমণ প্রতিহত করতে ১০ লাখ যোদ্ধা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটি এই ধরনের যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানকে ‘আত্মঘাতী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে দেশজুড়ে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি পরিচালিত হয়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক সূত্র আরও জানায়, দক্ষিণ ফ্রন্ট দিয়ে স্থলযুদ্ধে জড়ানোর যেকোনো মার্কিন চেষ্টা ‘ঐতিহাসিক বোকামি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘ঐতিহাসিক নরক’ তৈরি করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ১০ লাখ সেনার একটি বিশাল বাহিনী স্থলযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী রিক্রুটমেন্ট সেন্টারে ভিড় করছেন।
সামরিক সূত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি জোর করে খুলে দেওয়ার যেকোনো মার্কিন চেষ্টা ‘আত্মঘাতী’ পদক্ষেপ হবে। ইরান এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌ-মহড়া পরিচালনা করে, যা বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি প্রস্তুতিমূলক মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বিশাল সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে স্থলযুদ্ধ থেকে বিরত রাখার একটি কৌশলগত বার্তা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং নতুন করে সেনা মোতায়েনের আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ