স্টাফ রিপোর্টার
দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রাণ পুরুষ সহ মহিলাদের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর হলো মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা বা রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের ১ তারিখে এই আনন্দ উৎসব পালিত হয়। 'ঈদ' মানে আনন্দ বা ফিরে আসা, আর 'ফিতর' মানে রোজা ভাঙা। অর্থাৎ, দীর্ঘ এক মাস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ত্যাগ করার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আনন্দই হলো ঈদুল ফিতর।
ঈদুল ফিতর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস থেকে আমরা ঈদ উদযাপনের সঠিক নিয়ম ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারি। নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য হাদিস তুলে ধরা হলো:
১. ঈদের প্রচলন ও আনন্দ
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় আসলেন, তখন দেখলেন মদিনাবাসীরা বছরে দুটি দিন খেলাধুলা ও আনন্দ করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'এই দিন দুটি কী?' তারা বলল, 'আমরা জাহেলি যুগে এই দিনে আনন্দ করতাম।' তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুটির পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন; তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা'।" (সুনানে আবু দাউদ)
২. সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায়
ঈদুল ফিতরের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গরিব-দুঃখীদের ফিতরা প্রদান করা। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাদারের অনর্থক কথা ও কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের অন্নের সংস্থানের জন্য। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে এটি আদায় করবে, তা কবুলযোগ্য জাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে নামাজের পর আদায় করবে, তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে।" (সুনানে আবু দাউদ)
৩. ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ
ঈদের দিন আনন্দ ও খাওয়ার দিন, তাই এই দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।" (সহিহ বুখারি)
৪. ঈদের নামাজে যাওয়ার সুন্নত
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত:
"নবী করীম (সা.) ঈদের দিনে (যাতায়াতের) পথ পরিবর্তন করতেন।" (সহিহ বুখারি)
অর্থাৎ, তিনি এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যেতেন এবং অন্য পথ দিয়ে ফিরে আসতেন।
ঈদুল ফিতরের কিছু সংক্ষিপ্ত আমল (সুন্নত)
- গোসল করা এবং সাধ্যমতো পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা।
- ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বেজোড় সংখ্যক (যেমন ৩টি বা ৫টি) খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া।
- ঈদগাহে যাওয়ার সময় নিচু স্বরে তাকবির পাঠ করা।
- একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা।
ঈদুল ফিতর মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য একটি উপহার ও পুরস্কারের দিন। এই দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

0 Comments