ব্রেকিং নিউজ
খবর লোড হচ্ছে...

সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে শঙ্কা

 

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কজুড়ে দিন দিন বাড়ছে ময়লার ভাগাড়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ এখন শুধু দৃষ্টিকটুই নয়,পরিণত হয়েছে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকিতে।
স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, তদারকির অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে ট্রাক ও ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা এনে নির্জন জায়গায় ফেলে যাওয়ার প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রতিদিনই সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পচনশীল নানা আবর্জনা। ফলে সকালে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দুর্গন্ধ আর নোংরা পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সাভার ও আশুলিয়াতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, এখন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে গেছে। নাক চেপে না ধরলে থাকা যায় না। বৃষ্টির সময় ময়লা পানির সঙ্গে মিশে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়।
গার্মেন্টস কর্মী রোজিনা আক্তার বলেন, প্রতিদিন কাজে যাওয়ার পথে মনে হয় যেন ডাম্পিং স্টেশনের পাশ দিয়ে যাচ্ছি। এতে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে বাতাস, পানি ও মাটির দূষণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, এই বর্জ্য থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। অনেক সময় এতে মেডিকেল ও রাসায়নিক বর্জ্যও মিশে থাকে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দোকানের সামনে ময়লার স্তূপ থাকায় ক্রেতারা আসতে চান না, ফলে ব্যবসায় ধস নেমেছে।
এদিকে সড়কের পাশে বসবাসকারী হালিমা বেগম বলেন, ময়লার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। শিশুদের নানা রোগ হচ্ছে। দুর্গন্ধে রাতে ঘুমানো যায় না।
পরিবহন চালক রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কে ছড়িয়ে থাকা পচা বর্জ্য ও পলিথিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ তিনটি,সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, জনসচেতনতার ঘাটতি এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা। তারা দ্রুত নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কের পাশে জমে থাকা ময়লার সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। জমি পাওয়া গেলেই স্থায়ীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন , সাভার ও আশুলিয়ার মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় শুধু স্থানীয় দুর্ভোগ নয়,এটি জাতীয় পরিবেশগত সংকটেরই একটি প্রতিচ্ছবি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড ডাউনলোড

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

১০ মার্চ ২০২৬ ইং
মঙ্গলবার

পোস্টের শিরোনাম